//
Condition Guide
New
নতুন বই, বর্তমান এডিশন।
Old – Like New
পুরাতন, প্রায় নতুন বলা যাবে।
Old – Good Enough
পুরাতন, যথেষ্ট ভালো কন্ডিশন — বইয়ে দাগ থাকতে পারে তবে অনায়াসে পড়া যাবে।
Old – Readable
পুরাতন, আগের এডিশন। বইটি পাঠযোগ্য।
Save ৳6 more withWELCOME400coupon.
শূন্যদশকের অন্যতম প্রধান কবি শাফিক আফতাব (জন্ম : ১৯৭৬)। সাহিত্যের বিচিত্র শাখার তাঁর স্বাচ্ছন্দ্য পদচারণা থাকলেও কবি হিসেবে তিনি অধিক পরিচিত এবং পাঠকপ্রিয়। তিনি ধ্রুপদী ধারার এক সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব। শুধু কবিতা নয়Ñ ছোটোগল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধে তাঁর প্রতিভার স্ফূরণ লক্ষ্য করা যায়। ইতোমধ্যে সাহিত্য-গবেষণা ও সমালোচনা-সাহিত্যেও তিনি নিজের জাত চেনাতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো মৌলিক এবং তা উত্তর-প্রজন্মের জন্য আবশ্যকীয় হয়ে উঠবে বলে আমাদের বিশ^াস। আনন্দের বিষয় হলো, কবিশাফিক আফতাবের গবেষণাগ্রন্থ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ে সহায়কপাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। এত গুণের অধিকারী হয়েও শাফিক আফতাব নিজেকে ‘কবি’ হিসেবে পরিচয় দিতেই আনন্দবোধ করেন। তাঁর কবিতায় আবহমান বাংলা ও বাঙালির চিরন্তন রূপ মূর্ত হয়ে উঠেছে। বাংলা-সাহিত্যে নিরীক্ষাপ্রবণ কবিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সৈয়দ শামসুল হক (১৯৩৫-২০১৬)। সৈয়দ শামসুল হকের অবর্তমানে শাফিক আফতাবÑ কবিতার কারুকার্য ও করণকৌশল নিয়ে ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যাচ্ছেনÑ যার ফলে তাঁকে সমকালীন একজন ব্যতিক্রমধর্মী সাহিত্যসেবক বলে চিহ্নিত করা যায়। ছন্দ-অলংকার, শব্দচয়ন, রূপক ও উপমার ব্যবহারে পারঙ্গম কবি শাফিক আফতাবের কবিতায় সচেতনভাবে নিরীক্ষাপ্রবণতা সহজেই চোখে পড়ে। কবি দেশ ও দেশের মানুষ, সামাজিক দায়, জীবন-যন্ত্রণা, রাজনৈতিক প্রতিবাস্তবতা থেকে শুরু করে বৈশি^ক নানা অভিঘাত কবিতার ফর্মে সুন্দর ও সাবলীলভাবে প্রকাশ করেছেন।শাফিক আফতাবের কবিতায় গভীর জীবনবোধ এবং মানব চরিত্রের বহুমাত্রিক ধরন (কোয়ালিটি’র) সন্ধান পাওয়া যায়। কবি তাঁর নিজস্ব দর্শনভাবনা কবিতার আঙ্গিকে তুলে ধরেছেন। কবিতায় ছন্দ ও অলংকারের ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কবি পারঙ্গমতার পরিচয় দিয়েছেন। কবি তাঁর কবিতায় চিত্রের পর চিত্র সাজিয়ে যেন কথার মালা গেঁথেছেনÑ যাকে বোদ্ধাপাঠক ও সমালোচকগণ চিত্রকল্প বলেন; উপমাগুলোও তাঁরকবিতায় জীবন্ত হয়ে ওঠেছে।একুশে বইমেলা উপলক্ষে কবি শাফিক আফতাবের প্রকাশিতব্য সেদিন বসন্ত ছিলো (২০২৬) কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ।‘লোকান্তরিত বাবার উদ্দেশ্যে’কবিতায় কবি মানবজীবনের চিরায়তঅনুষঙ্গগুলো তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশে বাঙালি সংস্কৃতিতে পরিবারগুলো সাধারণত পিতৃতান্ত্রিক হয়। সেখানে ‘বাবা’ হলেন পরিবারের প্রধান বা কর্তাব্যক্তি। একটি পরিবারের জন্য ‘বাবা’ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেনÑ তা আমাদের প্রত্যেকের বোধগম্য। কিন্ত কোনো পরিবারে বাবা যদি অকালে লোকান্তরিত হন; তাহলে ঐ পরিবারে সদস্যদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। কোনো নিসর্গ ভ্রমণের আয়োজনে, ভোজনে, সু-সংবাদের বার্তায় বার বার লোকান্তরিত বাবার কথা মনে পড়ে। পিতা-মাতা তাঁর সন্তানদের পৃথিবীর সমস্ত ঝড়-ঝঞ্ঝাট থেকে রক্ষা করেন। আগলে রাখেন পুরো পরিবার। তাই বাবাহীন পৃথিবীতে অভাগা সন্তানের কাছে যেন মাথার ওপর থেকে সুসজ্জিত গৃহের ছাদ উড়ে যাওয়া অথবা পত্রবিহীন বটবৃক্ষের মতো নিজেকে শূন্য ও খাঁ খাঁ মনে হয়। কবি লিখেছেন,দেখেছি শত্রু দমনে আপনি একাই একটিমাত্র লাঠিতে সমরাঙ্গনে;আগপিছু ডর নেই, সামনে চলছেনই, শুধু সত্য আপনার সাথি,সারাটি জীবন সংগ্রামে প্রেমে ঘামে কী ঐশ্বর্য অর্জন মনের গহনে;মিথ্যের সাথে আপোষ নয়, জীবে দয়া; এই ছিলো আপনার প্রতীতি।[‘লোকান্তরিত বাবার উদ্দেশ্যে’, সেদিন বসন্ত ছিলো]
| প্রকাশনী | : | হাওলাদার প্রকাশনী |
| সংস্করণ | : | 1st Published, 2026 |
| কভার | : | hardcover |
| ভাষা | : | bangla |
| পৃষ্ঠা সংখ্যা | : | 80 |